অনলাইন কেনাকাটায় মেনে চলুন ১৩টি সতর্কতা

অনলাইন শপিং বা অনলাইনে কেনাকাটার সঙ্গে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। আর এই করোনার লকডাউনের সময় যেখানে বাইরে বের হওয়া নিষেধ, সেখানে অনলাইনে কেনাকাটাই অন্যতম ভরসার জায়গাটি নিয়েছে।

করোনার প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়; পড়েছে পুরো বিশ্বে আর এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর কারণেই সারা বিশ্ব বাজার আজ অচল প্রায়। কিন্তু এই অচল অবস্থায় ই-কমার্স এখন কেনাকাটার সহজ ও নিরাপদ মাধ্যম।

এই বিষয়ে ক্রাফের সভাপতি জেনিফার আলম বলেন, আমরা যারা অনলাইনে কেনাকাটা করি বা অনলাইনে সার্ফিং করি এই “Think Before Click” কথাটি মানি বা এই দিকে যদি লক্ষ্য রাখি, তাহলে আমরা প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই সেফ থাকতে পারবো। কারণ হ্যাকাররা হ্যাক করার জন্য প্রথমে যা করে তা হচ্ছে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ভিক্টিমকে কোনভাবে তার জালে ফাঁসানো আর এটা না বুঝে ভুল ক্লিকের মাধ্যমেই হয়।

এখানেও কিন্তু কথা আছে, অনলাইনে কেনাকাটা করে তো আমরা করোনাকালীন সময়ে কিছুটা নিরাপদ থাকতে পারব। কিন্তু অনলাইনে আমাদের ডাটা, আমাদের লেনদেন নিরাপদ কি? অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে হ্যাকারদের হাতে চলে যাচ্ছে না তো আমাদের ব্যাক অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড?

এই ব্যাপারে ক্রাফের আইটি অ্যানালিস্ট রাইয়ান মালিক বলেন, মূলত অনলাইনে কেনাকাটার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে- যে ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করছেন সেই সাইটটি কতটা ট্রাস্টেড এবং সাইটটি এনক্রিপটেড কিনা? ডেটা এনক্রিপশন ম্যাথউড ফলো করে কিনা? যদি এনক্রিপটেড না হয় তাহলে অর্থ লেনদেনে ঝুঁকি থেকেই যায়।

জেনে নেয়া যাক অনলাইনে কেনাকাটায় কীভাবে সতর্ক থাকবো ও নিরাপদ লেনদেন করবেন তার ১৩টি উপায় ও সতর্কতা-

১। আপনি যে ব্রাউজারটি ব্যবহার করছেন তা নিয়মিত আপডেটেড রাখুন।

২। এমন কোন ওয়েবসাইটে লেনদেন করবেন যে ওয়েবসাইট ডাটা এনক্রিপশন করে না বা সহজে বলতে গেলে যেসব ওয়েবসাইটে “HTTPS” নেই। “HTTP”-এর শেষে “S” লেখাটি দেখে নিবেন।

৩। লোভনীয় কোন ই-মেইলে যাচাই-বাছাই ছাড়া ক্লিক করা ও লেনদেন করা যাবে না।

৪। লোভনীয় কোন পপ-আপে ক্লিক করা ও লেনদেন করা যাবে না।

৫। সুখ্যাতি-সম্পন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠান ছাড়া লেনদেন না করাই ভালো।

৬। পাসওয়ার্ডে নম্বর, সিম্বল, ছোট-বড় হাতের অক্ষর মিলিয়ে তৈরি করা।

৭। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা না করা। ইমারজেন্সিতে ভিপিএন ব্যবহার করে করতে পারেন।

৮। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা করা ভালো। কারণ, ডেবিট কার্ড আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে, আর ক্রেডিট কার্ডে নির্দিষ্ট একটা আমাউন্ট ব্যবহারের পর বিল পে না করে ব্যবহার করা যায় না।

৯। ফিশিং সাইট থেকে দূরে থাকুন, লেনদেন করার আগে ওয়েবসাইটটি ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন।

১০। আপনি যে ওয়েবসাইটে লেনদেন করছেন তারা আপনার ডাটা কতটুকু নিরাপদে রাখবে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

১১। ক্রেডিট কার্ড বিল ও ব্যাংক স্টেটমেন্টে লক্ষ্য রাখুন, যে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ট্রানজেকশন আছে কি না, থাকলে তা ব্যাংককে রিপোর্ট করুন।

১২। নিজের ডিভাইসটিকে ম্যালওয়্যার মুক্ত রাখার জন্য ভাল একটি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন, যাতে হ্যাকাররা আপনার ডিভাইস হ্যাক করে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা পেমেন্টের তথ্য নিতে না পারে।

১৩। কেনাকাটার পর আপনি একটি ফেরত মেইল পাবেন, সেটি চেক করুন।

যেকোন ধরনের সাইবার ক্রাইম বা অনলাইনে আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন। জরুরি পুলিশি সাহায্যের জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে (টোল ফ্রি) কল করুন।