অনলাইন ক্লাস বাতিলের দাবিতে ছাত্রমৈত্রীর ‘ভার্চ্যুয়াল’ মানববন্ধন

অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষার নামে বেতন ও সেমিস্টার ফি নেয়া বন্ধসহ চার দফা দাবিতে ‘ভার্চ্যুয়াল’ মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী। ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয়, জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন দাবির সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে।

দাবিগুলো হলো, আগামী ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ বরাদ্দ, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ছয় মাসের বেতনসহ এক সেমিস্টার ফি মওকুফ, শিক্ষার্থীদের আবাসনে ভর্তুকি প্রদান।

নেতৃবৃন্দ জানায়, ৪ দফা দাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী ‘ভার্চ্যুয়াল’ মানববন্ধন করেছে শিক্ষা কাজের সংগ্রামের যোদ্ধা সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী। লকডাউনকে পুঁজি করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার ঘোষণা দেয়।

তবে এ কার্যক্রমের আড়ালে শিক্ষার্থীদের থেকে মাসিক বেতন ফি ও সেমিস্টার ফি আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়গুলোর। ছাত্রমৈত্রী শুরু থেকেই এই মহামারিকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে এই বাণিজ্যিক পদ্ধতির প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অনলাইন কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু লকডাউনে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ হবে তাই ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় ও জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাদের নিজ নিজ টাইমলাইনে পোস্ট করে সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধি করছে।

এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেল বলেন, অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবার ও মেহনতি মানুষের সন্তানেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। বর্তমান বাস্তবতায় তাদের পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের পরিবারের খাদ্য যোগাড় করতেই তারা হিমশিম খাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে সেমিস্টার ফি প্রদান, আবাসন খরচ ও উচ্চমূল্যের ইন্টারনেট ক্রয় করে অনলাইনে ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই বিষয়ে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাখাতে বিশেষ বরাদ্দ ও ভর্তুকি দিয়ে এই করোনা সঙ্কটে নিরসনে উদ্যোগী হোক।