বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

আজ গাজীপুরের সাবেক সাংসদ জনপ্রিয় আ’লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৬তম শাহাদাত বার্ষিকী

আজ ৭ মে গাজীপুরের প্রায়ত সাংসদ ও প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৬ তম শাহাদাৎ
বার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের হায়দরাবাদ গ্রামে আহসান উল্লাহ মাস্টারের কবরে পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন, পবিত্র কোরআনখানি, কালোব্যাচ ধারণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও ইফতার বিতরণের কর্মসুচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়াত এ নেতার ছোট ভাই সাংবাদিক আতাউর রহমান জানান, দিবসটি উপলক্ষে গত মঙ্গলবার ও বুধবার শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ফাউন্ডেশন ও শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে গাজীপুরের কর্মহীন ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল এমপি প্রতিমন্ত্রী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় আহসান উল্যাহ মাষ্টারের ছেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি বুধবার পূবাইল, টঙ্গী এবং
গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে শ্রমজীবী ও পেশাজীবীসহ ১০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি আরো জানান, আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ (গাজীপুর সদর-টঙ্গী) আসন হতে দুইবার (১৯৯৬ ও ২০০১ সালে) সংসদ সদস্য, ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে দুইবার স্থানীয় পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য, শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সস্পাদক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মদদ পুষ্ট একদল সন্ত্রাসী টঙ্গীস্থ নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় প্রকাশ্যে দিবালোকে জনপ্রিয় নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গুলি করে হত্যা করে। পরে ২০০৫ সালের ১৬ মে এই মামলার রায়ে ২২ জনের ফাঁসি ও ৬ জনের যাবজ্জীবন
কারাদন্ডের আদেশ হয়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট ডিভিশন আসামীদের ডেথ রেফারেন্স, জেল আপীল ও আবেদনের শুনাণি শেষে ৬ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল এবং ৮ জনের যাবজ্জীবন বহাল রেখে ১১ জনকে খালাস দেন। বিচার চলাকালে ২জন আসামী মারা যায়। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত একজন পলাতক আসামীর আপিল না থাকায় তার ব্যাপারে আদালত পূর্বের রায় বহাল রাখেন।

জন্ম : আহসানউল্লাহ মাস্টার জন্ম ১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর, তৎকালীন ঢাকা জেলার (বর্তমান গাজীপুর ) পুবাইল ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা ও কর্মজীবন আহসানউল্লাহর শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের হায়দরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন শেষ করে টঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। আহসানউল্লাহ ১৯৬৫ সালে এসএসসি পাস করে তৎকালীন কায়েদে আযম কলেজে (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ ) একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন।
১৯৭০ সালে ডিগ্রি পাস করার পর আহসানউল্লাহ টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি ওই বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক (১৯৭৭-১৯৮৪) ও প্রধান শিক্ষকের (১৯৮৪-২০০৪) দায়িত্ব আমৃত্যু পর্যন্ত পালন করেন। আহসানউল্লাহ মাস্টার টঙ্গী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান আহসানউল্লাহ মাস্টার ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানি বাহিনী র হাতে আটক ও নির্যাতিত হয়েছিলেন। ভারতের দেরাদুনের তান্দুয়া থেকে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে পুবাইল , টঙ্গী , ছয়দানাসহ বিভিন্ন জায়গায় গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ জয়দেবপুরের ক্যান্টনমেন্টের বাঙালী সৈন্যদের নীরস্ত্র করতে ঢাকা থেকে আসা পাকিস্তানী বাহিনীকে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়ার জন্য জনতাকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।