মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

গাজীপুরের শ্রীপুরে মা ও ৩ সন্তান হত্যা: গ্রেপ্তার আরো ৫, পালাক্রমে ধর্ষণ করেছিল ঘাতকরা

র‌্যাব-১ এর গাজীপুর এর পরিচালক ও উইং কমান্ডার সারওয়ার বিন কাশেম এক অনলাইন প্রেস ব্রিফিং এ জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরের আবদার(জৈনাবাজার)এ সংগঠিত মা ও তিন সন্তানকে হত্যার ঘটনায় আরো পাঁচ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-১। গ্রেফতাররা হলো- শ্রীপুরের আবদার গ্রামের মৃত আছরব আলীর ছেলে মো. কাজিম উদ্দিন (৫০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার গাবি গ্রামের মৃত আ. খালেকের ছেলে  মো. হানিফ (৩২), আবদার গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে  মো. বশির (২৬), ময়মনসিংহের ত্রিশালের ফকিরপাড়া (আউয়াল নগর) এলাকার মৃত হবি উদ্দিনের ছেলে  মো. হেলাল (৩০) এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার থানার কাঠালবাড়ী এলাকার মো. আজিদ উল্লাহ’র ছেলে  মো. এলাহি মিয়া (৩৫)।

পরিকল্পনা ও খুনঃ মাসহ দুই -মেয়েকে ধর্ষণ ও চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ছিল সুপরিকল্পিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজোয়ান হোসেন কাজল ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কাজিম উদ্দিনের বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার এলাকার আবদার গ্রামের আব্দুল আউয়াল কলেজের পাশে। কাজলের বিদেশে থাকার সুবাদে বিভিন্ন প্রয়োজনে তার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কাজিম ও তার দুই সন্তান পারভেজ ও সজীবের। নিয়মিত তারা বাড়িতে যাতায়াতও করত। অনেকবার কাজলের দুই মেয়েকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে হত্যাকান্ডে জড়িত প্রথম আটককৃত পারভেজ। পারভেজের নামে আগেও একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা রয়েছে। ২২ এপ্রিল দিনের বেলায় কাজিম উদ্দিনের বাড়িতে বসে প্রবাসী কাজলের বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করে পুরো পরিবারটি। আগেও কাজলের বাড়িতে কাজিম উদ্দিনের সন্তান পারভেজ চুরি করেছে। পরে ধরা পড়ার পর বিচার-সালিশও করেছে স্থানীয়রা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওইদিন মধ্যরাতে দোতলা ভবনে পেছন দিক দিয়ে উঠে ২-৩ জন বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে উপরের তলায় প্রবেশ করেন।ধৃত ও ঘাতক হানিফ সিড়িঁর ঢাকনা খুলে দোতলা দিয়ে নিচে নেমে ভেতরে ঢুকে পেছনের দরজা খুলে দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে ৭-৮ জন ঘরে ঢুকে। কাজিম উদ্দিন স্মুতি ফাতেমার নিকট দাবি করে তার নিকট নগদ ২২ লাখ টাকা । কিন্তু স্মৃতি জানায় তার নিকট এতো টাকা নেই। পরে ৩০ হাজার টাকা বের করে দেয় ফাতেমা। সোনা গয়না চুরির সময় কাজলের বড় সন্তান নুরা (১৬) ও ছোট সন্তান হাওরিন (১২) টের পেয়ে যায়। এরপর তাদের দুইজনকে কয়েকজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। শব্দ পেয়ে তাদের মা ইন্দোনেশিয়া বংশোদ্ভূত ফাতেমা আক্তার তাদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও আহত করে ধর্ষণ করে। পরে তাদের ছোট সন্তান ফাদিলকে (৭) সহ চারজনকেই বটি দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে তারা। আধাঘণ্টার মধ্যে পেছনের দরজা দিয়ে ঘাতকরা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। অপরাধীরা ঘটনা ঘটিয়ে কেউ এলাকা ছেড়ে পালায়নি।
হত্যা, ধর্ষণ ও চুরিতে কাজিম উদ্দিনের মেয়ের জামাইসহ পুরো পরিবার জড়িত। লুট করে নেয়া নগদ অর্থ, সোনা-গয়না ভাগভাটোয়ারার পর কাজিমের মেয়ে স্থানীয় একটি জুয়েলারি দোকানে সোনার আংটি গলিয়ে নতুন করে তৈরির জন্য অর্ডার দিয়েছিল। সূত্রটি আরও বলেন, চুরি যাওয়া নগদ অর্থ, সোনা-গয়না, রক্তমাখা গেঞ্জি, লুঙ্গি ও জিন্স প্যান্টসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। মূলত ওই ঘাতক পরিবারটির পেশা চুরি করা। তারা মাদক সেবন ও জুয়া খেলার সাথেও জড়িত।

উল্লেখ্য যে, প্রবাসী কাজলের বাবা আবুল হোসেন ঘটনার পরদিন(২৩ এপ্রিল) শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার নং=২৮।