মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

গাজীপুরে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভ বেতনের দাবিতে

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা এলাকায় বুধবার সকালেও বিক্ষোভ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে এ্যাবা গার্মেন্টের শ্রমিকরা। এ সময় তারা মালিক পক্ষের ঘোষিত ৬০ ভাগ প্রত্যাখান করে পুরো বেতন দাবি করে।

কারখানার শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ জানায়, এ্যাবা ফ্যাশন লিমিটেড কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণায় ছিল যেসব শ্রমিক কাজ করেছেন তারা পুরো বেতন পাবে। অন্যরা বেতনের ৬০ ভাগ পাবেন। যেসব শ্রমিক কাজ করেনি তারা মালিক পক্ষের ওই ঘোষণা প্রত্যাখান করে গত মঙ্গলবার থেকে শতভাগ বেতন দাবি করে আসছে। তারা কর্মরত শ্রমিকদেরও উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে। যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। বুধবার সকালে শ্রমিকরা কাজে এসে কারখানা বন্ধ দেখতে পেয়ে বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে।

কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক ইউসুব আলী জানান, কারখানা খোলার পর থেকে তারা জীবনের ঝকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এখন কর্তৃপক্ষ বলছে ৬০ ভাগ বেতন দিবে। ওই টাকায় ঘরভাড়া, খাওয়া দাওয়া কোন কিছুই হবে না। এতে আরো অভাবের মধ্যে পড়তে হবে। তাই পুরো বেতন দিতে হবে।

একই সেকশনের আসমা বেগম জানান, বেতন কম পেলে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। শ্রমিকদের কেউ ত্রাণ বা সাহায্যও দেওয় না। সামনে ঈদ আসছে, খরচ আরো বেড়ে যাবে। তাই পুরো বেতনই চায় তারা।

এ্যাবা ফ্যাশন লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আফতাব উদ্দিন আহম্মেদ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের জন্য জারি করা নোটিশে উল্লেখ করেছেন, ৫ মে শ্রমিকরা সু-নির্দিষ্ট কোন বৈধ ও আইনগত দাবি না থাকা সত্তেও বেআইনিভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখে। তারা অন্য সেকশনের কাজ জোরপূর্বক বন্ধ করতে বাধ্য করে। সকলকে ভয়ভীতি প্রদান করে কারখানায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বার বার অনুরোধ কর সত্তেও শ্রমিকরা উৎপাদন কাজে যোগদান করেনি। এ কার্যক্রম অবৈধ ধর্মঘটের শামিল। যার কারণে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১৩ (১) অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হল।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, কারখানাটিতে ২৪০০ শ্রমিক রয়েছে। সংকট সমাধানে ১০-১৫ সদস্যের শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার বিজিএমই ভবনে মালিক পক্ষের সাথে শিল্প পুলিশের মধ্যস্থতায় বৈঠক করবে। অন্য শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করবে। এ সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকরা কর্মসূচী প্রত্যাহার করে দুপুরে বাসায় ফিরে যায়।