মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

গাজীপুরে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নিজ সন্তান বিক্রি

গাজীপুরে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন এক দম্পতি। এরপর সন্তান বিক্রির ২৫ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন তারা। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে আসলে ওই শিশুটিকে তার বাবা-মার কাছে ফেরত এনে দেয় পুলিশ।এ নিয়ে হাসপাতালের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বইছে এবং সেবার নামে গলাকাটা ওই হাসপাতালের মালিক ও কর্তব্যরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি করছে এলাকাবাসি।
শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ির  সেন্ট্রাল হাসপাতালে। প্রসূতি কেয়ার স্বামীর নাম মো. শরীফ। তারা এনায়েতপুর এলাকায় ভাড়া থেকে দুজনই স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ওই দম্পতি ওই এলাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। দারিদ্রতার অভাবে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে পারছিলেন না। পরে তাদের সন্তানটিকে বাধ্য হয়ে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে বাড়ি চলে যান তারা। যাদের কাছে সন্তানটিকে বিক্রি করা হয়েছিল তাদের টাকা ফেরত দিয়ে ওই সন্তানকে তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গত ২১ এপ্রিল গর্ভবতী অবস্থায় কেয়া খাতুন নামে এক নারী কোনাবাড়ী এলাকায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই সিজারের মাধ্যমে তার একটি ছেলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কেয়া খাতুন ওই হাসপাতালে ১১ দিন ভর্তি ছিলেন। এতে হাসপাতালের বিল আসে ৪২ হাজার টাকা। এতো টাকা পরিশোধ করার মত সামর্থ্য ছিল না ওই দম্পতির। একপর্যায়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হয়ে সন্তান বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
পরে শুক্রবার ২৫ হাজার টাকায় তাদের ১১ দিন বয়সের ছেলে সন্তান বিক্রি করে দেন। সন্তান বিক্রির সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে বাড়ি চলে যান ওই দম্পতি। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজি) (এসবি) শহিদুল ইসলামের নজরে আসে। পরে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ারকে বিষয়টি অবগত করেন। একপর্যায়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন ২৫ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে শুক্রবার ওই শিশুটিকে ফেরত আনেন। এরপর  শরীফ-কেয়া খাতুন দম্পতির সন্তানকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। পুলিশের এমন উদারতাকে সম্মান ও ধন্যবাদ জানিয়ে আসছেন সাধারণ জনগণ। তারা আরও দাবি করছেন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের।