ডিভোর্স কোনো পাপ নয় যে মুহূর্তেই কাউকে পাপী ভেবে নিবেন

মনোমালিন্যের কারণে ভেঙে গেল সুখী দম্পতি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজিয়া হাসান অদিতির সংসার। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ৯ বছর আগে।

হঠাৎ করেই সামনে আসে এ দম্পতির বিচ্ছেদের খবর। এরপর শোবিজ মহলে শুরু হয়ে যায় কাঁদা ছোড়াছুড়ি। যদিও এতে দমে যাওয়ার পাত্র নন তারা। আলাদা হয়ে গেলেও দুজন দুজনের প্রতি যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করেই বিষয়টি মেনে নিয়েছেন পারিবারিকভাবে। আলাদা হয়ে যাওয়ার পরও কেউ কারও প্রতি কোন আঙুল তুলেন নি এখন পর্যন্ত। বরংচ দুজন দুজনের মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন বেশ। তাদের এই সিদ্ধান্তে সবাইকে পাশে চেয়ে নতুনভাবে পথ চলতে চেয়েছেন অপূর্ব ও অদিতি।

কথায় আছে, শোবিজে ভাঙন মানেই যেন নানারকম মুখরোচক কথা শুনতে হয় তারকাদের। এর ব্যতিক্রম হয় নি এ দম্পতির বেলায়ও। অনেক ভক্ত থেকে শুরু করে অনেকেই সেটাকে নেগেটিভভাবে নিয়ে কথার খোঁচায় আঘাত করছেন দুজনকে। মেনে নিতে পারছেন না তাদের আলাদা হয়ে যাওয়াকে। যার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম মন্তব্য ছুঁড়ছেন।

এদের বাইরে অনেকেই এ দম্পতির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে তাদের পাশে রয়েছেন এবং সাপোর্ট করে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম মন্তব্যের জেরে জবাব দিয়েছেন নাজিয়া হাসান অদিতি। আলাদা হয়ে গেলেও প্রাক্তন স্বামীকে নিয়ে কোনরকম মন্দ কথা শুনতে নারাজ তিনি।

নাজিয়া হাসান অদিতি বলেন, ডিভোর্স কী? ধর্ষণ? খুন? চুরি? ডাকাতি? কী?

ডিভোর্স কোনো পাপ নয় যে, আপনারা তাঁকে পাপী ভেবে নিবেন। সে এখনও আমার প্রিয় তারকা। সে জন্ম থেকেই যোদ্ধা। একজন স্টার।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ভক্ত ডিভোর্সের কারণে তাঁকে (অপূর্বকে) পছন্দ করা বন্ধ করে দেন তাহলে আমি মনে করি এ ধরনের ভক্তের দরকার নেই। এ ধরণের ভক্তের বাইরেও লক্ষ লক্ষ লোক রয়েছেন যাদের বুদ্ধি আছে এবং তারা জানেন ভালো কাজের সাথে ডিভোর্সের কোনো সম্পর্ক নেই।

ডিভোর্সের সাথে প্রফেশনের কোনো যোগাযোগ নেই। আমি এখনও তাঁর কাজকে ভালোবাসি এবং এখনও তাঁর নাটক দেখি। বোকাদের মতো আবেগ ভালো না।

ভক্তদের উদ্দেশ্যে অদিতি বলেন, আপনি যদি আসলেই তাঁর ভক্ত হন তাহলে তাঁকে সাপোর্ট করুন, ভালোবাসুন। তাঁর জন্য প্রার্থনা করুন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১৪ জুলাই ভালোবেসে নাজিয়া হাসান অদিতিকে বিয়ে করেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। দীর্ঘ ৯ বছর সংসারের পর সম্প্রতি তারা আলাদা হয়ে যান। তাদের ঘরে ৬ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে যার নাম জায়ান ফারুক আয়াশ।