বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বেসরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকরা প্রণোদনাসহ বাজেটে বেতন বরাদ্দ চান

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার ঠেকাতে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব শিক্ষকের প্রণোদনাসহ ২০২০-২১ অর্থ বছরে বাদপড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছেন শিক্ষকরা।

বেসরকারি প্রাথমিকের শিক্ষক নেতারা বলছেন, শিক্ষক সরকারের অনুদান প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিপাকে না পড়লেও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অর্থ সংকটে পড়েছেন। নন-এমপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এককালীন প্রণোদনা জন্য শিক্ষকদের তথ্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত  প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তায় , ব্যবস্থা  না হওয়ায়  মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা ।

শিক্ষক নেতারা জানান, ২০১৩ সালে ২৬,১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেয় সরকার। সেই সময় মাঠ পর্যায়  থেকে ৩০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও তড়িঘড়ি করে ২৬,১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক জাতীয়করণ করা হয়।

জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে যায় ৪১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়। এই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর স্মারকলিপি দেন শিক্ষক নেতারা।বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ মামুনুর রশিদ খোকন ডেল্টা টাইমসকে জানান,বেতন ভাতা না থাকায় জীবন-যাপনের জন্য এই সব  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা পাঠদান শেষে বিভিন্ন ক্ষুদ্র কাজে কর্মরত ছিলো।করোনাভাইরাসের কারণে তাও বন্ধ ।

কর্মহীন হয়ে পড়ায়  স্ত্রী সন্তান মা বাবা পরিবার-পরিজন নিয়ে মহা -বিপদে আছেন তারা এমনকি অনেক শিক্ষকের পরিবারে  ঈদের ছোঁয়া লাগেনি এবার । যেখানে বেসরকারি শিক্ষকদের নুন আনতে পানতা ফুরায় সেখানে  দীর্ঘ-দিন কর্ম না থাকায় অর্ধাহারে – অনাহার ঘরে থাকতে হচ্ছে তাদের। মামুনুর রশিদ খোকন আরও বলেন, এই সংকটকালে দেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ  অংশ হচ্ছে শিক্ষাখাত । 

বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা, শিক্ষার মুলভিত্তি হলেও ২০১৩ সালেও জাতীয়করণকালীন পরিসংখ্যান ভুলের কারণে অল্প সংখ্যক বিদ্যালয়  জাতীয়করণের বাইরে থেকে যায় । প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  একটি অংশ সরকারি বেতন ভাতা পেলেও আর একটি অংশের কপালে জোটেনি বেতন ভাতা । করোনা সংকটে ও জোটেনি প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা । 

এমতাবস্থায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে এই বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণের অর্থ বরাদ্দ রেখে ।জরুরি ভিত্তিতে এই শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও প্রণোদনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।