শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

মজুরি ইস্যুতে গার্মেন্টসে শ্রম অসন্তোষ বাড়ছেই; এখনো সুরাহা হয়নি ঈদ বোনাস ইস্যু

ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গার্মেন্টস খাত। করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর ধীরে ধীরে কারখানা চালু হওয়ার সঙ্গে নানামুখী ইস্যুতে শ্রম অসন্তোষও শুরু হয়েছে।

গতকাল শনিবারও মজুরি ইস্যুতে শ্রম অধ্যুষিত গাজীপুর ও আশুলিয়া অঞ্চলের প্রায় ৩০টি কারখানায় শতভাগ বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব এলাকায় সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কর্তৃক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের এসপি মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ইত্তেফাককে জানান, সবমিলিয়ে ৩০টির বেশি কারখানায় অসন্তোষ হয়েছে। বেশি হয়েছে গাজীপুর ও আশুলিয়া এলাকার কারখানায়। এসব কারখানায় শ্রমিকরা শতভাগ বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। আজ রবিবারও অসন্তোষের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শ্রমিক নেতা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, এপ্রিলে কাজ না হওয়া কারখানায় শ্রমিকদের সরকার ৬৫ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও আমরা বলেছি শ্রমিকদের মানাতে পারব না। তারা হয়তো রাস্তায় নেমে যাবে।

আবার ৬৫ শতাংশ বেতনের বিষয়টি জানানোর কাজটি করবে ফেডারেশনের আওতাধীন ট্রেড ইউনিয়ন। কিন্তু প্রায় ৯৫ শতাংশ কারখানায় তো ট্রেড ইউনিয়নই নেই। ফলে এসব শ্রমিক কার কথা শুনবে। অবশ্য শতভাগ বেতনের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে—এমন বক্তব্য মানতে নারাজ গার্মেন্টস মালিকরা। পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এনভয় গ্রুপের কর্ণধার আব্দুস সালাম মুর্শেদী ইত্তেফাককে বলেন, এটি ‘মনগড়া’ তথ্য। তেমন ঝামেলা নেই।

এদিকে বেতন-ভাতা ইস্যুর মধ্যেই সামনে চলে এসেছে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ইস্যুটি। এ বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। ইতিমধ্যে ১৫ রমজান পার হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, আজ রবিবার শ্রম ভবনে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এই সভায় কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এদিকে, সরকারি ছুটিতে শ্রমিকদের বেতন কর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রমিকদের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছে ১৭টি শ্রমিক অধিকার সংগঠন। এদিকে পৃথক একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার গার্মেন্টস খাতের ১৭টি শ্রমিক সংগঠন পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নেতাদের সঙ্গে এক সভায় সরকারঘোষিত সিদ্ধান্তের প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা জানায়।

একই সঙ্গে গার্মেন্টসের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। কিন্তু এ সিদ্ধান্তটি কোনো পক্ষ থেকেই গণমাধ্যমে জানানো হয়নি। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার।

ইত্তেফাককে তিনি বলেন, আমরা ৬৫ শতাংশ মজুরির বিষয়ে সমর্থন দিয়েছি। তবে এটি মানা-না-মানা শ্রমিকদের বিষয়। তবে তারা যেন বেআইনি কাজ না করে। তিনি বলেন, ছুটির মধ্যে কারখানা বন্ধ করা এবং পরবর্তীকালে শ্রমিকরা কী হারে বেতন পাবে, তা মালিকপক্ষ জানায়নি। ফলে শ্রমিকরা মনে করেছিল তারা পুরো বেতন পাবে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।