মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

যাত্রীতে ঠাসা লঞ্চ, বাসা ভাড়া ৬০ শতাংশেরও বেশি

দুই মাস বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার সারাদেশে শুরু হয়েছে বাস চলাচল। কিন্তু অর্ধেক সিট ফাঁকা রাখার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেটা বিভিন্ন এলাকার লোকাল বাসগুলোতে একেবারেই মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর কথা থাকলেও যাত্রীদের থেকে এরচেয়ে বেশি আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সকাল থেকেই রাজধানী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস। দূরপাল্লার পরিবহনগুলোতে একটি সিটে যাত্রী, অপরটি ফাঁকা রেখে যাত্রী তোলা হচ্ছে। ঢাকার বাইরে থেকেও একইভাবে যাত্রী তোলা হচ্ছে। বাসের যাত্রীদের ওঠানোর সময় লাইন ধরে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বাসে উঠানো হচ্ছে।

কিন্তু লোকাল বাসগুলোতে এসব বিধি বিধানের কোনো বালাই নেই। সিট তো ফাঁকা রাখা হচ্ছেই না। উল্টো ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

অপরদিকে, সকাল থেকে বরিশাল নৌবন্দরে লঞ্চগুলোর ডেকে সাদা রং দিয়ে বৃত্ত এঁকে সামাজিক দূরত্ব রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু লঞ্চ ছাড়ার সময় হতেই ভেস্তে গেল সব। বৃত্ত আর সামাজিক দূরত্বকে ‘দূরে’ ঠেলেই গাদাগাদি করে লঞ্চে ওঠেন যাত্রীরা। রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া তিনটি লঞ্চের ডেকে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় নৌবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের ভিড়ে চিরচেনা রূপ পেয়েছে বরিশাল নৌবন্দর। পন্টুনে পা ফেলার জায়গা নেই। আর নোঙর করা লঞ্চগুলোতে কে কার আগে উঠে জায়গা নিতে পারে, সে জন্য যাত্রীদের চেষ্টার কমতি ছিল না। লঞ্চে প্রবেশমুখে জীবাণুনাশক রাখা হলেও শারীরিক দূরত্বের বালাই ছিল না কোনো লঞ্চেই।

রোববার বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে তিনটি লঞ্চ। এগুলো হলো সুন্দরবন-১১, সুরভী-৯ ও অ্যাডভেঞ্চার-৯। রাজধানীর উদ্দেশে রাত সাড়ে আটটার মধ্যে যাত্রা করার কথা। তবে যাত্রী ভরে যাওয়ায় তার আগেই ছেড়ে যায় লঞ্চগুলো। এগুলোর মধ্যে শুধু সন্দরবন–১১ লঞ্চের সামনে জীবাণুনাশক টানেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি দুটি লঞ্চে তা দেখা যায়নি।

বিকেল গড়াতেই লঞ্চগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রতিটি লঞ্চের ধারণক্ষমতার দেড় থেকে দুই গুণ যাত্রী ওঠানো হয়। বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার নিজে মাইকিং করে যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব ও অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে ওঠার ব্যাপারে মাইকে বারবার সতর্কতা প্রচার করলেও তাতে কর্ণপাত করেননি কোনো যাত্রী।

একপর্যায়ে বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান র‌্যাব সদস্যদের নিয়ে নদীবন্দরে পৌঁছে ডেকের অবস্থা দেখে ডেকের প্রধান ফটক বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর তিনটি লঞ্চেরই প্রধান ফটক বন্ধ করা হয়।