বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রাজউক-গণপূর্ত গোল্ডেন মনিরের কবজায়!

নিজস্ব সংবাদদাতা : সামনে পেছনে ব্যক্তিগত সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীদের চারটি গাড়ির বহর। বহরের মাঝখানে থাকা কালো কাঁচের একটি দামি গাড়ি থেকে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান ফটকে এসে নামেন এক ব্যক্তি। গাড়ি থেকে নামার পর সঙ্গে থাকা প্রটোকলের লোকজন তাকে ঘিরে বলয় তৈরি করে নিয়ে যায় লিফটের কাছে। যেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে লিফটম্যান।

এরপর ওই ব্যক্তি সরাসরি যান অফিসটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কক্ষে। সেখানে অবস্থান করার সময় তার সঙ্গে আসা নিরাপত্তাকর্মী ও রাজউকের কর্মচারীরা মিলে কক্ষটির বাইরে তৈরি করেন নিরাপত্তাবলয়। এ সময় কক্ষটিতে যেকোনো মানুষের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে তারা।

কিছু সময় পর কক্ষ থেকে বের হয়ে নিরাপত্তকর্মীদের বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে ফের একইভাবে গাড়িবহর নিয়ে রাজউক ভবন এলাকা ত্যাগ করেন ওই আগন্তুক। আর রাজউক ভবনে ভিআইপি প্রটোকলে তার এই চলাফেরা দেখে সেখানে আসা উৎসুক সাধারণ লোকজন কৌতূহল নিয়ে আগন্তুকের নাম জানতে চাইলে কেউ কেউ বলে ওঠেন ‘গোল্ডেন মনির’।

গতকাল র‌্যাবের অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্র, মাদক এবং বিপুল পরিমাণ সোনা ও দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির এভাবেই একদল ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বেষ্টিত হয়ে গাড়িবহর হাঁকিয়ে রাজউকের মতো সরকারি দপ্তরগুলোতে যেতেন।

প্রভাবশালী এই ব্যক্তি রাজউকের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরও নিজের কবজায় নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। আর তিনি সফলও হয়েছিলেন। বিভিন্ন প্রভাবশালীদের কাজে লাগিয়ে সেখানেও তার পছন্দের প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসাতে সক্ষম হন।

দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজউকের প্রায় ১২শ প্লট নিয়ে বাড্ডা প্রকল্প। এরমধ্যে ৪৩০টি প্লট নিয়ে রয়েছে বাড্ডা পুনর্বাসন জোন। এ পুনর্বাসন জোনের কমপক্ষে শতাধিক প্লট রয়েছে গোল্ডন মনিরের কবজায়। আর বাকি প্লটগুলোর বরাদ্দ, নকশা অনুমোদন, নামজারি, বিক্রয় অনুমতি ও বন্ধক অনুমতিসহ সব ধরনের দাপ্তরিক কাজও মনিরের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাণিজ্যিক কাম আবাসিক এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন এই মনির। আর এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংস্থাটির এনেক্স ভবনের ৫ তলার ৫১৪ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নিয়ে নিজের অফিস হিসেবে চালাতেন। মনিরের ফাইলপত্র দেখাশোনার জন্য রাজউকের কয়েকজন কর্মচারীও রয়েছে।

দীর্ঘদিন রাজউকের উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে নিজের কাজ চালিয়ে গেলেও গত বছরের ১৫ অক্টোবর গোল্ডেন মনিরের ওই কথিত অফিসে হানা দেন তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ। সংস্থা প্রধানের নেতৃত্বে ওই অভিযানে গোল্ডেন মনিরের কথিত অফিস থেকে ৭১টি ফাইল জব্দ করা হয়।

সব ফাইলই নিয়ম অনুযায়ী রাজউকের নিজস্ব রেকর্ডরুমে থাকার কথা ছিল। ফাইলের সঙ্গে গোল্ডেন মনিরের সহযোগী রাজউকের কর্মচারী পারভেজকেও আটক করা হয়। ওই অভিযানের পর সেদিনই রাজউকের পক্ষ থেকে গোল্ডেন মনির ও পারভেজকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এই মামলায় মনিরকে পলাতক দেখানো হয়েছিল। আর পারভেজকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

রাজউক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নব্বই দশকের দিকে সাবেক ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ডিআইটি) আওতায় প্রায় ১২শ প্লট নিয়ে একটি আবাসন প্রকল্প করে সরকার। রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় এ প্রকল্পের শতাধিক প্লট নিজের কবজায় নিয়েছেন গোল্ডেন মনির। নিজে ও নিকট আত্মীয়দের নামে নেওয়া এসব প্লটে ইমারত নির্মাণেও মানা হয়নি বিধিবিধান।

আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক ভবন, ফার ও সেট-ব্যাক না মানা, নির্ধারিত তলা থেকে বেশি নির্মাণ করা, পার্কিংয়ের স্থলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা অনিয়মও রয়েছে মনিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্লটগুলোতে। সরকারেরে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রাজধানীজুড়ে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও রাজউকের এ প্রজেক্ট রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বছর দুয়েক আগে রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত বাড্ডা এলাকায় মনিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভবনগুলোতে অভিযানে গেলেও সংস্থাটির উচ্চপর্যায় থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (বর্তমানে সচিব, বিআরটিএ) মো. অলিউর রহমানকে ফিরিয়ে আনা হয়।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, নানা অনিয়মের জন্য মেরুল বাড্ডা রাজউক আবাসিক এলাকায় ১০ নম্বর সড়কের ২, ৪, ৯, ১১, ১২, ১৬, ১৩, ১৭, ২০, ২৪, ২৫, ২৬, ২৮, ৩০, ৩৪, ৩৬, ৩৮, ৪০ ও ৪৬ নম্বর বাড়ির মালিকদের নোটিস দেওয়া হয়। এছাড়া ১১ নম্বর সড়কের ২, ৩, ৪, ১৩, ১৭, ১৮, ২২, ২৪, ২৬, ৩৩, ৩৬, ৩০, ৩১ ও ৩৪ নম্বর, ১২ নম্বর সড়কের ২ নম্বর ও ১৩ নম্বর সড়কের ৮, ১০, ১৩, ১৭, ২০, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩৪ নম্বর বাড়ি, ১৫ নম্বর সড়কের ১ ও ৪ নম্বর বাড়ি, ৮ নম্বর সড়কের ১৬, ১৫, ১৯, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ৩৯, ৪১, ৪৩ ও ৩১ নম্বর বাড়ি, ৭ নম্বর সড়কের ৩২ নম্বর, ৬ নম্বর সড়কের ৩২ ও ৩৩ নম্বর এবং ৫ নম্বর সড়কের ৩৪ ও ৩৭ নম্বর বাড়ি মালিকদের একযোগে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব প্লটের বেশিরভাগ মালিকানা নামে-বেনামে মনিরের থাকায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

রাজউকের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, গোল্ডন মনিরের নিজ নামে বারিধারা জে-ব্লকের ১ নম্বর রোডের ১ নম্বর প্লটের ৪ কাঠা ১ ছটাক, একই এলাকার জে-ব্লকের ১৩ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর প্লটের ৪ কাঠা ৪ ছটাক, ২ প্রগতি সরণির ৪ কাঠা প্লট এবং বাড্ডা পুনর্বাসন জোনের ১১ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর আড়াই কাঠা আয়তনের প্লট রয়েছে। সবগুলো প্লটেই বহুতল ভবন করেছেন মনির। এ ছাড়া গুলশান, উত্তরা (দ্বিতীয় পর্ব), উত্তরা (তৃতীয় পর্ব) ও পূর্বাচলেও তার কমপক্ষে ২০টি প্লট রয়েছে বলে রাজউক থেকে জানা গেছে।

রাজউক কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ১৫ অক্টোবর দুপুরে তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম এনেক্স ভবনের ৫তলার ৫১৪ নম্বর কক্ষটিতে গিয়ে সেখানে ৭১টি ফাইল দেখতে পায়। সবগুলো ফাইলই রাজউকের বাড্ডা পুনর্বাসন প্রকল্পের। নিয়ম অনুযায়ী ফাইলগুলো মূল ভবনের ২য়তলা (গুলশান-বাড্ডা সেল) রেকর্ড কক্ষে থাকার কথা। ফাইলসহ ৫১৪ নম্বর কক্ষটি থেকে রাজউকের এমএলএসএস পারভেজকে আটক করা হয়। এ কক্ষটি থেকেই মূলত গোল্ডেন মনির রাজউক সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজকর্ম করে থাকেন। আর তাকে সহযোগিতা করে পারভেজ। ওই ৭১টি ফাইল গোল্ডেন মনির প্রস্তুত করছিলেন পুনর্বাসন প্লট হিসেবে তার কবজায় নিতে। অভিযানকালে সেখান থেকে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার ও বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমের সিল ও প্যাড পাওয়া গেছে।

রাজউকের কর্মকর্তারা আরও জানান, কমিশনার কাউয়ুমের ছত্রচ্ছায়ায় গোল্ডেন মনির বাড্ডা এলাকার রাজউকের শতাধিক প্লট নিজের করে নেন। তবে এ কাজে রাজউকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে রাজউকের সাবেক সিবিএ নেতা আব্দুল জলিল আকন্দ ও তার আত্মীয় রাজউকের নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ ওরফে ওবায়েদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন মনির। জলিল ও ওবায়দুল্লাহর নামে-বেনামে বাড্ডা এলাকায় রয়েছে একাধিক প্লট। এ ছাড়া রাজউক শ্রমিক লীগের সভাপতি ও উচ্চমান সহকারী আবদুল মালেকের সঙ্গেও রয়েছে মনিরের ঘনিষ্ঠতা। মনিরের সহায়তায় মালেক নিজেও বাড্ডায় আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

রাজউক কর্মকর্তারা জানান, দুই-তিন বছর ধরে পূর্বাচল ও বনানী-বারিধারা এলাকায় প্লটের কাজে মনির রাজউকের পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলামের শরণাপন্ন হতেন। প্রভাবশালী কর্মকর্তা শেখ শাহিনুল ইসলাম আর মনিরের ভয়ে অনেক কর্মকর্তা বিধিবহির্ভূত কাজ করতে বাধ্য হন। সম্প্রতি শেখ শাহিনুল ইসলাম উপপরিচালক (গুলশান-বনানী) রাহেলা রহমতুল্লাহর সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ তাকে গালিগালাজ করেন। এরপর বিসিএস ২৮তম ব্যাচের এ নারী কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ দেন। পরে ঝামেলা এড়াতে রাজউকের চেয়ারম্যানের রুমে নিয়ে রাহেলার কাছে ক্ষমা চান শেখ শাহিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজউকের একজন কর্মকর্তা বলেন, গুলশান-বনানী এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজ নামে ৫/৬টি ফ্ল্যাট নিয়েছেন। রাজউকের আইন অনুযায়ী তা বেআইনি। এসব ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করলে এ কাজে বাগড়া দেয় শেখ শাহিন। একপর্যায়ে এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত উপসচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন শাহিন। এখন মনিরের গ্রেপ্তারে কিছুটা হলেও কোণঠাসা হবে শেখ শাহিন।

গত কয়েক বছর একাধিক দিন রাজউকের প্রধান দপ্তরে গোল্ডেন মনিরকে সংস্থাটির চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সদস্য (এস্টেট), পরিচালক (এস্টেট) ও উপপরিচালকদের রুমে অবস্থান করতে দেখা গেছে। মনির যখন কর্মকর্তাদের রুমে অবস্থান করতেন, তখন কর্মকর্তাদের রুমে অন্য সব মানুষের প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ ছিল। এ সময় রাজউকের কর্মচারী ও মনিরের গানম্যানদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা থাকত।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বেশিরভাগ সময়ে অফিস সময় পেরিয়ে বিকেলের দিকে রাজউকে আসতেন গোল্ডেন মনির। একাধিক দেহরক্ষী নিয়ে ভবনে প্রবেশ করে সরাসরি চলে যেতেন সংস্থাটির চেয়ারম্যানের কক্ষে। সেখানে দীর্ঘ সময় দাপ্তরিকসহ নানা আলাপ-আলোচনা চলত। সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের কাছ থেকেই বাড্ডা এলাকার অর্ধশত প্লটের নানা ধরনের কাজকর্ম করিয়ে নিয়েছেন মনির। তবে মনিরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা কৌশলে এড়িয়ে যান রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মনির নামে একজন আমার কাছে আসতেন। তিনি ব্যবসায়ী ও বাড্ডা এলাকায় তার বেশ কিছু প্লট থাকায় বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসতেন। তবে আমার কাছ থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো সুবিধা নিতে পারেননি।’

গণপূর্তেও মনিরের থাবা : রাজউকে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর সরকারের নির্মাণসংক্রান্ত সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন মনির ওরফে গোল্ডেন মনির। সরকারের নানা প্রভাবশালী মহলকে কাজে লাগিয়ে সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ে তার অনুসারী প্রকৌশলীদের বসানোর জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মাঝামাঝি গণপূর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ মেট্রো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে মনিরের বন্ধু হিসেবে পরিচিত প্রদীপ কুমার বসুকে চেয়ারে বসান।

চেয়ারে বসার পর বিসিএস ১৫তম ব্যাচের প্রকৌশলী প্রদীপ তার ব্যাচে নবম হলেও গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে যেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। আর প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করতে সব ধরনের চেষ্টা তদবির অব্যহত রাখেন গোল্ডেন মনির। সম্প্রতি প্রদীপ বসু ও মনির তদবির করে তাদের ঘনিষ্ঠ খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সতীনাথ বসাককে ঢাকা সার্কেল-২-এ বদলি করে নিয়ে আসেন। ধারণা করা হচ্ছিল, দিনে দিনে প্রদীপ-মনির সিন্ডিকেটের কাছে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলমও। মনিরের গ্রেপ্তারের খবরে সংস্থাটিতেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

উত্তরায় ২০০ কোটি টাকার জমজম টাওয়ার : রাজধানীর উত্তরা এলাকায় গোল্ডেন মনিরের রয়েছে বিশাল এক ভবন। উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ মোড়ের ২০ কাঠা আয়তনের এ প্লটে ১৪তলা ভবন নির্মাণ করেছেন মনির। মনিরের এ ভবনের বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.