সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

শিক্ষার মান দন্ডে নিটার এর ভূমিকা অনন্য

বিশেষ প্রতিবেদক: মানুষের ৫ টি মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম একটি হলো বস্ত্র। আমরা সবাই জানি বস্ত্র আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতির এক বড় চালিকা শক্তি হচ্ছে গার্মেন্টস শিল্প। আর চাহিদা অনুযায়ী বস্ত্রের যোগান দিয়ে থাকে এই গার্মেন্টস শিল্প। এই শিল্পের মূল উপাদান হচ্ছে কাপড় আর এই কাপড় তৈরির কলা-কৌশলের পেছনে রয়েছে টেক্সটাইলের অবদান।  বাংলাদেশ এখন পোশাক শিল্পে দ্বিতীয় বৃহত্তম যোগানদাতা দেশ হিসেবে পরিচিত। রপ্তানি বাণিজ্যের ৮১ শতাংশ এবং দেশের বার্ষিক জিডিপির ২০ শতাংশ আসে টেক্সটাইল সেক্টর থেকে, যা রপ্তানি বাণিজ্যে অবদান রাখছে। এ ছাড়াও, প্রায় ২ কোটি মানুষ টেক্সটাইল সেক্টরে কর্মসংস্থান বেছে নিয়েছেন, যা দেশের বেকারত্ব সমস্যাকে দূর করেছে। রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারের নয়ারহাটে নিজস্ব ১৩.৪ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ১টি ডিপার্টমেন্টে মাত্র ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে তা ৫টি ডিপার্টমেন্টে ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে মাত্র দশ বছরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা অর্জন করেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) তত্ত্বাবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই পাবলিক প্রাইভেট বিদ্যাপীঠটি দেশের তৈরি পোশাককে সমৃদ্ধ করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে এখানে পড়ার সুযোগ হতে হয়। প্রযুক্তি ইউনিটের ৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিটার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তি ইউনিটে পরীক্ষা দেওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা প্রার্থীকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের গ্রেড ভিত্তিক পরীক্ষায় ৪র্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএ ৬.৫০ হতে হবে এবং পৃথকভাবে ৩.০০ থাকতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগের হতে হবে। বর্তমানে নিটারে ব্যাচেলর পর্যায়ের পাঁচটি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অধীনে শিক্ষার্থী রয়েছেন মোট ১৭২৩ জন এবং শিক্ষক রয়েছে ৮৩ জন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপাতে ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ১ জন শিক্ষক। যেই অনুপাতটা আন্তর্জাতিক শিক্ষার মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার মানদণ্ডেও এগিয়ে নিটার। ছাত্র-ছাত্রীদের অধ্যয়নের জন্য প্রায় ৪০ হাজার বইসমৃদ্ধ একটি ডিজিটাল লাইব্রেরি রয়েছে। গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি স্বতন্ত্র ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন (সিআরআইআর)’। এখানে সুতা তৈরি থেকে কাপড় বুনন, কাপড়ে নকশা তৈরি, রঙিন করা এবং তা সেলাই করে পরিধানযোগ্য করে তোলাসহ সব হাতে-কলমে শেখানো হয়। সুতা তৈরির জন্য রয়েছে ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং ল্যাব। সুতা থেকে কাপড তৈরির জন্য রয়েছে ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ল্যাব। কাপড়ে রঙ করার জন্য রয়েছে ওয়েট প্রসেসিং ল্যাব, যেখানে সব অটোমেটিকভাবে ডাইং এবং প্রিন্টিং হয়ে থাকে। রয়েছে আধুনিক এপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং ল্যাব, যা অটোমেটিক মেশিনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ ছাড়া, কাপড়ের গুণগতমানের যাচাইয়ের জন্য রয়েছে কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাব। এর বাইরে গিয়েও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে কম্পিউটার ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, গেম অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাব, সায়েন্স সোসাইটি, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পাশাপাশি সৃষ্টিশীল কর্মের দিকে সংযুক্ত রাখছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে হোস্টেল এবং শিক্ষকদের জন্য কোয়ার্টার। এছাড়াও দুটি মাঠ এবং মেডিক্যাল সেন্টার রয়েছে।