সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯

সখীপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলা

সখীপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবদুল কাদের মিয়ার উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে আজ ৯ মে শনিবার দুপুরে সখীপুর পৌরসভা কার্যালয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

হামলার শিকার আবদুল কাদের মিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ মে বিকেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌরসভার ভূমি উপ-সহকারী পদে কর্মরত আবদুর রাজ্জাক তার দলবল নিয়ে প্রতিবেশী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবদুল কাদেরের উপর হামলা চালায়। এতে তাঁর দুই হাত ও পাজরের হাড় ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার নিউলাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সখীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ। তাঁর বক্তব্যে যুদ্ধাহত ওই মুক্তিযোদ্ধার উপর বর্বরোচিত হামলার মূল আসামিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। এসময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদ্য সাবেক কমান্ডার এম এ গণি, আমজাদ হোসেন বিএসসি, হাতিবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি হারুন আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হামলার শিকার গাজী আবদুল কাদের মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বাবার উপর হামলার ঘটনায় আসামি আবদুর রাজ্জাকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আদালত ওইদিনই তাদের জামিন দিয়েছেন। জামিনে এসে আসামীরা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এতে আমার পরিবার খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবদুর রাজ্জাক তাঁর বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, গত ৩ মে বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাতিজা আবদুর রাজ্জাক তার লোকজন নিয়ে উপজেলার শোলাপ্রতিমা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদেরের স্ত্রী রহিমা পারভীনকে মারধর করে। এ ঘটনায় আবদুল কাদের মামলা মামলা করলে ক্ষুব্ধ আবদুর রাজ্জাক ৫ মে বিকেলে মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদেরের উপর হামলা করে।

এতে তাঁর দু হাত ও পাজরের হাড় ভেঙে যায়। এ ঘটনায় ওই রাতেই আবদুল কাদেরের ছেলে কামরুল হাসান বাদী হয়ে আবদুর রাজ্জাকসহ ১০ জনকে আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেন। পরে ৬ মে সকালে পুলিশ আবদুর রাজ্জাক ও তাঁর স্ত্রী মোমনাবেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। কিন্তু ওইদিনই তারা জামিনে মুক্তি পাওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।