শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সন্তান যখন নার্ভাস

নিজস্ব সংবাদদাতা : ব্যক্তিজীবনে নার্ভাস হয়নি এমন মানুষ কম আছে। শিশু বয়সে এর থেকে বের হতে না পারলে বড় হয়েও এটি থেকে যায়। বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের যেমন হয় আবার দেড়-দুই বছরের শিশুরও থাকতে পারে নার্ভাসনেস।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মেখলা সরকার মনে করেন, একেক শিশুর একেক কারণে নার্ভাসনেস থাকতে পারে। নিরাপত্তাহীনতা ও সেপারশেন অ্যাংজাইটি থেকে বেশির ভাগ ছেলেমেয়ের এই সমস্যা দেখা দেয়। আত্মবিশ্বাস কম থাকে ওদের।

যেসব কারণে এমন হতে পারে
বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, কোনো কারণে শিশু মানসিক চাপে থাকলে বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলে তার মধ্যে অযথা ভয় কাজ করে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয় কাটলেও নার্ভাসনেস কাজ করে।

শিশুকে সবকিছুতে নিরুত্সাহিত করলে, রাগ করলে ভেতরে ভেতরে সে দমে যাবে। নিজের মতামত, অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারবে না। এটা শিশুকাল থেকে তার মধ্যে হতাশা এনে দেবে। যা বড় হয়ে বড় আকারের সমস্যা ডেকে আনবে। কোনো কিছুতে ব্যর্থ হলেও শিশুকে বিদ্রূপ করা ঠিক নয়। এর ফলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসহীনতা দেখা দেয়।

তাহলে উপায়?
শিশুকে সামাজিক হতে সাহায্য করতে হবে। সারাক্ষণ তাকে পাহারা না দিয়ে সবার সঙ্গে মিশতে দিতে হবে। তবে কার সঙ্গে মিশছে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। শিশুর ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেবেন না। তাকে মতামত, অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। অযথা শিশুকে ভয় দেখানো, ভয়ের গল্প বলা থেকে বিরত থাকুন। এতে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

শিশু কেন নার্ভাস তা বুঝে নিন। বিশেষ কোনো বিষয়ে হলে তা থেকে তাকে বের করে আনার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে মনোবিদের পরামর্শ নিন।

শিশুকে আশ্বস্ত করতে হবে, যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনারা তার পাশে আছেন। ভুল করলে প্রথমেই রাগারাগি বা শাস্তি না দিয়ে তাকে বোঝান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.