শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সুস্থ সম্পর্ক গড়তে কী কী প্রয়োজন?

নিজস্ব সংবাদদাতা : যে কোনও সম্পর্কেই উত্থান-পতন থাকে। আমরাও তার ব্যতিক্রম নই। যে কোনও মানুষের ব্যবহারই তার পরিচয়। বর্তমানে এমন এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি, যেখানে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কেউ বাড়ি-পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন, আবার কেউ রয়েছেন বাড়ির থেকে অনেক দূরে। কবে কখন আবার দেখা হতে পারে তা জানে না কেউই। জীবন আর অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়ে দেয় অনেক কিছু। সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা, মানিয়ে নেওয়া, এবং ভালো থাকার চাবিকাঠি থাকে আমাদের হাতেই। হতেই পারে একটা সময় অনেক রকম খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলতে হয়েছে। কিন্তু সেই খারাপ লাগা মনের মধ্যে দীর্ঘদিন পুষে রাখার চেষ্টা না করাই ভালো। বরং সবসময় এমন চেষ্টা করা উচিত কীভাবে সব কাটিয়ে আবার সুসম্পর্কের সূচনা করা যায়।

যে কোনও সম্পর্কই কিন্তু তার নিজের মতো করে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। কারণ এই সম্পর্কই মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। এবার প্রশ্ন হল, সেই সম্পর্ক থেকে আপনি নিজে কী চাইছেন। যে কোনও সম্পর্কের মূল ভিত্তি হল বিশ্বাসযোগ্যতা। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস বজায় রেখে চললে তবেই মানুষ চিনতে পারবেন। সমাজে থাকতে গেলে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। সেই সময় একে অপরের পাশে থাকলে যেমন মানসিক বল পাওয়া যায় তেমনই লড়াইটাও সোজা হয়ে যায়। ভালো খারাপ প্রত্যেকের মধ্যেই থাকে। কখনই শুধু ভালো কিংবা শুধু খারাপ গুলোকে পয়েন্ট করা উচিত নয়। বরং এই ছোট ছোট সমস্যার যদি কোনও সমাধান বাতলানো যায় তাহলে তা উভয়ের পক্ষেই ভালো। কিছু বিষয়ে উভয়েই যদি সংবেদনশীল না হন, তাহলে মানসিক দূরত্ব আসতে বাধ্য। মতবিরোধ হতেই পারে, কিন্তু মতবিরোধ মানেই অসম্মান নয়। একে অপরের ভাবনা কিংবা মতামতকেও শ্রদ্ধা করতে শেখা প্রয়োজন।

আমরা কারণে অকারণে অনেক কিছু নিয়ে আগে থেকেই আশা রাখি। প্রিয় মানুষের থেকে আশা অবশ্যই থাকবে, কিন্তু তা যেন কখনও মাত্রাছাড়া না হয়। আশা অতিরিক্ত হলে সেই প্রভাব পড়ে সম্পর্কেও। কোনও কথা বলার আগে তৈরি হয় মানসিক দ্বিধা। পরবর্তীতে যা ছোট ছোট সমস্যার সৃষ্টি করে। ফলে যে কোনও সম্পর্কই সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে এগিয়ে নিয়ে চলতে গেলে যে যে বিষয় একটু মাথায় রাখতে হবে তা হল-

কর্মব্যস্ততার মাঝেও সময় করে একটু সঙ্গীর খোঁজ নেওয়া। ঠিক সময়ে খাওয়া হল কিনা, বা আর সব ঠিকঠাক চলছে কিনা সে বিষয়ে একটু খেয়াল রাখা।

সময় পেলে একে অপরের পছন্দের কাজে একসঙ্গে যাওয়া। তা হতে পারে ঘর গোছানো, ছবি আঁকা কিংবাসুযোগ হলে একসঙ্গে বসে এক কাপ কফি খাওয়া।

একটা উইকএন্ড একসঙ্গে বেরিয়ে পড়তে পারেন নতুন কোনও রেস্তোরাঁর খোঁজে।কিংবা কোনও কফি শপে। বা লং ড্রাইভে যেতে পারেন অচেনা কোনও জায়গাতেও। যার যে রকম পছন্দ।

একসঙ্গে সময় কাটানো খুব জরুরি। ভালো সময় কাটানো মানেই যে কোথাও ঘুরতে যেতে হবে এমনটা নয়। একসঙ্গে পছন্দের বই পড়া, গান শোনা কিংবা একে অপরের পছন্দের খাবার বানানো এসবের মধ্যে দিয়েও ভালো সময় কাটানো যায়। এছাড়ও মাঝে মধ্যে সারপ্রাইজ দিন। পছন্দের কোনও চকোলেট, বই বা যা খুশি দিতে পারেন। ছোট ছোট বিষয়ের মধ্যে থেকেই আনন্দ খুঁজে বের করবার চেষ্টা করুন। দেখবেন মনের দিক দিয়ে ভালো থাকবেন। প্রিয়জনের সঙ্গে বজায় থাকবে সুসম্পর্কও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.