শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

হোটেলে বসে কুকর্মের পরিকল্পনা ফয়সালের

আজকের দেশবার্তা রিপোর্টঃ করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফয়সাল আল ইসলামের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে। গত সোমবার রাজধানীর বনানীর হোটেল সুইট ড্রিম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ধরা পড়ার আগে ফয়সাল প্রতিদিন সন্ধ্যায় ওই হোটেলের ১৬ তলায় মাদকের আড্ডা বসাতেন। ওই আড্ডায় গত মার্চে খায়রুল নামে একজন খুন হন। গত ১১ মার্চ সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। সেই মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। এই হোটেলে বসেই ফয়সাল করোনা পরীক্ষার জালিয়াতিসহ নানা কুকর্মের পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোয় চিকিৎসাসেবা সীমিত হয়ে পড়ে। পরে কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য শাহাবুদ্দিন মেডিক্যালসহ চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে নির্ধারণ করে সরকার। অন্য হাসপাতালগুলো চিকিৎসা শুরু করলেও পিছু হটে শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল। অবশ্য পরে সব হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা শুরু হলে তারাও চিকিৎসা দিতে শুরু করে। এরই মধ্যে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটি ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে গত ১৯ জুলাই দুপুরে হাসপাতালটিতে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে অসহযোগিতা করায় ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে ডা. আবুল হাসনাত ও ইনভেন্টরি অফিসার শাহজির কবির সাদিকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরের দিন শাহাবুদ্দিনের এমডি ফয়সালকে সুইট ড্রিম হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাহাবুদ্দিন মেডিক্যালে রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামাফিক বিল আদায়, করোনাভাইরাসের অনুমোদনহীন অ্যান্টিবডি র‌্যাপিড টেস্ট, পরীক্ষা ছাড়াই করোনার ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া, করোনা নেগেটিভ রোগীকে পজিটিভ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাখা, ভিন্ন ল্যাব থেকে কভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়ে নিজেদের প্যাডে প্রতিবেদন দেওয়ার মতো অপকর্ম চলত। হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর আগে শেষ হলেও ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এসব অপকর্মের দায় ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিন আসামি স্বীকার করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শাহাবুদ্দিন হাসপাতালের এমডি ফয়সালের নির্দেশে ডা. আবুল হাসনাত অন্যদের সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে ডা. আবুল হাসনাত এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন জানিয়ে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাসকেন্দ্রিক যত দুর্নীতি শাহাবউদ্দিন হাসপাতালে হয়েছে, তার জন্য ফয়সালকে দায়ী করেছেন ডা. হাসনাত।

সাহাবুদ্দিন মেডিক্যালে করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করে র‌্যাব। পরে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) দেওয়া হয়। গত বুধবার মামলার নথিপত্র ও গ্রেপ্তার তিন আসামিকে বুঝে নেয় ডিবির তদন্তকারী টিম। প্রাথমিক তদন্ত শেষে এই হাসপাতালে ৯ ধরনের অনিয়ম পাওয়ার কথা জানিয়ে গতকাল ডিবির উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মামলার নথি ও আসামিদের আমরা বুঝে পেয়েছি। এখন মামলার এজাহারে যেসব অভিযোগের তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে, সেসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার এজাহারের অভিযোগ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তিন আসামিকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাঁদের প্রত্যেকের কাছ  থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে  নেওয়ার জন্য  মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা সবাই সব ধরনের অপকর্মের দায় স্বীকার করেন।