বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭

৮২ শতাংশ পোশাক শ্রমিকের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা : করোনাভাইরাসের কারণে দেশের কমপক্ষে ৮২ শতাংশ পোশাক শ্রমিকের জীবিকার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এক সমীক্ষায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) যৌথভাবে এ সমীক্ষা পরিচালনা করেছে।

চলমান কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব সম্পর্কে জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের জিজ্ঞেস করা হলে তাদের মধ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন যে, এই মহামারি তাদের জীবিকার ওপর কোনও প্রভাব ফেলেনি।

সমীক্ষার তথ্য বলছে, বাকি ৮২ শতাংশ পোশাক শ্রমিকের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের পোশাক শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করতে সানেম এবং এমএফও গত ১৫ সপ্তাহে এক হাজার ৩৬৭ জন শ্রমিকের ওপর ধারাবাহিকভাবে জরিপ চালিয়েছে। সিরিজ এই জরিপে প্রতি সপ্তাহে নতুন প্রশ্ন যোগ করা হয়। সর্বশেষ জরিপে এক হাজার ২৬৯ শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।

জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত, যাদের তিন-চতুর্থাংশ নারী।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের  ৮৯ শতাংশ অন্তত একবার হলেও অভিবাসন করার কথা জানিয়েছেন। এদের মধ্যে ৯১ শতাংশ  নারী ও ৮৩ শতাংশ পুরুষ। ৮১ শতাংশ অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন যে, তারা চাকরির জন্য অভিবাসন করেছেন। আবার চাকরির জন্য অভিবাসীদের ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তারা একবারই অভিবাসন করেছেন।

সর্বশেষ জরিপে শ্রমিকদের আয়, আয়ের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং আয়ের ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব নিয়ে তথ্য উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের ৫১ শতাংশ  জানিয়েছেন যে, মহামারির আগে তারা পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন। নারীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ ও পুরুষদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ একই কথা জানিয়েছেন।

কোভিড-১৯ এর আগে যারা পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন তাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। ৩৩ শতাংশ মাঝে মধ্যে এবং ৯ শতাংশ কখনও কখনও টাকা পাঠাতেন। করোনা সংকটের আগে যে ৫১ শতাংশ শ্রমিক পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন, তাদের মধ্যে ১৮ শতাংশ এখন আর পরিবারের কাছে টাকা পাঠান না।

এছাড়া ৫৮ শতাংশ তাদের পরিবারে আগের চেয়ে কম টাকা বা আগে যতবার পাঠাতেন তার চেয়ে কমবার পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। ২২ শতাংশ জানিয়েছেন কোভিড-১৯ এর কারণে তাদের পরিবারের কাছে পাঠানো অর্থের পরিমাণের ওপর কোনও প্রভাব পড়েনি।

সানেম এবং এমএফও’র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ জরিপগুলো ‘গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ’ শীর্ষক প্রকল্পের অংশ।

আন্তর্জাতিক সংস্থা মাইক্রোফাইন্যান্স অপরচুনিটিজের উদ্যোগে বাংলাদেশ, ভারত ও কম্বোডিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে ২০১৬ সালে এ প্রকল্প শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *