সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭

করোনা শেষ হলেও দুই কোটি মেয়ের স্কুলে ফেরা হবে না

নিজস্ব সংবাদদাতা : মহামারি করোনার প্রকোপ শেষ কিংবা বিধিনিষেধ শিথিল হলে হয়তো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে যাবে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে গেলেও দুই কোটি নারী শিক্ষার্থীর আর কখনোই স্কুলে ফেরা হবে না। এই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং নারী অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই।

করোনা সংকটে স্থবির পৃথিবীর গতি ফিরতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। তবে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফেরার চেষ্টা হলেও, প্রচুর সময় প্রয়োজন। নেই কোনো ভ্যাকসিন। এই পরিস্থিতিতে অধিকাংশ আক্রান্ত দেশে এখনও বন্ধ স্কুল–কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনিশ্চয়তা মধ্যে রয়েছে বিশ্বের ১৬০ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন। 

তবে বিশ্ব এই পরিস্থিতি সামলে উঠলে দেশে দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ফের খুলে দেয়া হলেও কতজন নারী শিক্ষার্থী পুনরায় স্কুলে পড়াশোনা করতে যাবেন, তা নিয়ে সন্দিহান মালালা ইউসুফজাই। জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় তাই নারী শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার আশঙ্কার কথাই শোনালেন তিনি।

মালালা বলেন, ‌‌‌‘মহামারি সংকট শেষ হলেও কেবল শিক্ষাক্ষেত্রে আরও দুই ‌কোটি মেয়ে ঝড়ে পড়বে। যাদের আরও কখনোই ফেরা হবে না স্কুলে। ইতোমধ্যে‌ গোটা বিশ্বে শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দের ঘাটতি ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।‌’

পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আয়োজিত একটি আয়োজনের বিরতিতে দেয়া বক্তৃতার সময় মালালা বলেন, নারী শিক্ষার মতো বিশ্বের সামষ্টিক লক্ষ্যগুলো অর্জনে মারাত্মক আঘাত হেনেছে কোভিড-১৯।

মালালা আরও বলেন, ‌‘‌১২ বছর বয়সী প্রত্যেক শিশুকে সমান শিক্ষা প্রদানে আর কবে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেবেন?কবে শান্তি ও শরণার্থীদের সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন?‌ আর কবে আপনারা পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নেবেন?‌’‌‌

প্রসঙ্গত গত মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনা ১৯০ দেশের ১৬০ কোটি শিক্ষার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; এমন এর আগে কখনো হয়নি। এই সংকটে যে ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের ৯৯ শতাংশ নিম্ন এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের।

পাকিস্তানের প্রত্যন্ত সোয়াত উপত্যকায় জন্ম নেওয়া মালালা তালেবানের বাধার পরও নারীশিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাওয়ায় ২০১২ সালে জঙ্গিরা তাঁকে গুলি করে। ২০১৪ সালে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *