মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭

অস্ত্র মামলায় রিজেন্টের চেয়ারম্যান সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা : অস্ত্র মামলায় রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার এক নম্বর মহানগর স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ এ রায় দেন।

মামলায় সাহেদকে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারায় যাবজ্জীবন ও (চ) ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুটি সাজা একত্রে চলবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ওই অস্ত্র বাজেয়াপ্ত ও যে গাড়ি থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে, তার মালিকানা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর একই আদালত রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করা হয়েছিল।  

গত ২৭ আগস্ট এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর ওইদিনই এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক এসএম গাফফারুল আলমের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৪ জনের মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার কাজ শেষ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) তাপস কুমার পাল বলেন, এই মামলায় আমরা রাষ্ট্রপক্ষে যাবতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতে তুলে ধরেছি। আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আসামির সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।

গত ৩০ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো. শায়রুল এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১৩ আগস্ট মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুলফিকার হায়াত।

গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এরপর তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে সংস্থাটি। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় র‌্যাব অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

এরও আগে গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।

পরদিন ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *